• ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের আস্থা অর্জনে মানবিক পুলিশিংয়ের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

“কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন”—পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ; প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশ বাহিনী গঠনেরও ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১০, ২০২৬, ২২:৪০ অপরাহ্ণ
জনগণের আস্থা অর্জনে মানবিক পুলিশিংয়ের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সংবাদটি শেয়ার করুন....

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের আস্থা অর্জন এবং মানবিক আচরণের মাধ্যমে পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।

আজ রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়াম-এ পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত ‘কল্যাণ প্যারেড’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, এটি পরিচালিত হবে বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী। জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে।”

তিনি বলেন, “পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, সেটিই হবে পুলিশের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আর পুলিশের সাফল্য মানেই সরকারের সাফল্য।”

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। সেই জনগণ যখন বিপদে পড়ে থানায় যায়, তখন তাদের আচরণে রাষ্ট্রের মালিকানার অনুভূতি দেওয়া আপনাদের দায়িত্বের অংশ।”

তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ সাধারণত বিপদে না পড়লে থানায় যায় না। তাই থানায় গিয়ে যেন মানুষ স্বস্তি ও সহায়তার অনুভূতি পায়, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিকতার চর্চার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা ও নির্ভরতার। যে কোনো বিপদে জনগণ যেন থানাকে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে।”

বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল। তবে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে জনগণের বিশ্বাস অর্জনের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং তা ধরে রাখাই বর্তমানে পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও আর্থিক জালিয়াতির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণে সরবরাহকারী ও উৎসকে টার্গেট করে অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণ এবং আধুনিক ফরেনসিক সুবিধার ব্যবহার আরও বাড়ানো জরুরি।

তিনি জানান, সাইবার ক্রাইম, আর্থিক জালিয়াতি, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে সরকার পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

মানবাধিকার ও আইনের শাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গুম, অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।”

পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাহিনীকে আধুনিক ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, রেশন ও ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয় সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।