সেমিকন্ডাক্টরই হবে বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাজধানীর নভোথিয়েটারে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন । ছবি : পিএমও
সংবাদটি শেয়ার করুন....
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তিনি বলেন, এ খাতকে দেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে সরকার ইতোমধ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মেলন শুধু একটি আয়োজন নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর আগামী বাংলাদেশের নির্মাতাদের মিলনমেলা। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন এবং তাদের অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ সামিটে অংশ নিয়েছেন। সরকার একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।
চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে সেমিকন্ডাক্টরকে আধুনিক প্রযুক্তির ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা প্রযুক্তি, মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে মহাকাশ প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টরের ভূমিকা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ খাতের উন্নয়ন শুধু সরকারের একক উদ্যোগে সম্ভব নয়; বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ অনুদান’ বরাদ্দ দিয়েছে এবং এর বিতরণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বন্ডেড সুবিধা এবং আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি বিদ্যমান হাই-টেক পার্কগুলোর উন্নয়ন এবং নতুন একটি বায়োটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ, দক্ষ মানবসম্পদ ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার ওপর ভর করেই এ খাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব। সরকার এ লক্ষ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন অংশীদারত্ব, গবেষণা কার্যক্রম এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের প্রযুক্তি খাতকে আরও এগিয়ে নেবে।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ সামিটের আয়োজন করেছে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচি।
সামিটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এ ৩৫টি স্টলে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমসহ বিভিন্ন ডিপ-টেক উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।