প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন-
“কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সুস্পষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, কোনো মেয়ের স্বপ্ন অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তাহীনতা বা বৈষম্যের কারণে থেমে না যায়। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ হয়ে নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সমান সুযোগ পায় – এটাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।
‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ পালিত হচ্ছে। প্রতিটি মেয়ের জন্য নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনভাবে তার সকল স্বপ্ন ও সম্ভাবনা বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য। বর্তমান সরকার সেই কর্তব্য পালনে বদ্ধপরিকর।
কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদার প্রতি আমাদের সবার দায়িত্বশীল হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নির্মাতা। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ দিতে পারলে তারা গড়ে তুলবে আরো জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন বাল্যবিবাহ, বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতায় থেমে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের এই দিনে আসুন, আমরা প্রতিটি কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আরো দৃঢ় অঙ্গীকার করি। বাল্যবিবাহ ও সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি। কন্যাশিশুদের স্বাধীন এবং নিরাপদে বেড়ে ওঠার অন্যতম শর্ত তার সামনে শিক্ষার সুযোগ আরো বিস্তৃত করা, তাকে জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীদের জন্য বিনা বেতনে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়ালেখার সুযোগ অবারিত করেছে।
আমরা চাই, একটি মেয়ের জন্ম যেন একটি পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে। কোনো কারণে একজন মেয়ের যাতে লেখাপড়ার সুযোগ থেমে না যায় এবং নিজের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়, তেমন একটি রাষ্ট্র এবং সমাজ বিনির্মাণে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আজকের একটি শিশুকন্যাকে উপযুক্ত শিক্ষা, স্নেহ, অধিকার ও সুযোগ দিয়ে গড়ে তোলার মাধ্যমেই আগামী দিনের একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।
নারীর রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে একটি কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার অন্যতম একটি পদক্ষেপ হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। কন্যাশিশু ও নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ বিশেষ করে কন্যাশিশুর শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মনির্ভরতার পথ সুগম করবে। আমরা এমন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই, যেখানে প্রতিটি মেয়ে নির্ভয়ে চলতে, শিখতে, কথা বলতে ও মত প্রকাশ করতে পারে। বাস্তব ও ডিজিটাল-উভয় পরিসরেই তার নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একজন কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এ কারণে আমাদের সবাইকে একযোগে ভূমিকা রাখা জরুরি।
কন্যাশিশুর স্বপ্নকে শক্তিতে, শিক্ষাকে সক্ষমতায় এবং সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়েই আমরা গড়ে তুলব আগামী দিনের বাংলাদেশ। কন্যাশিশুর জন্য একটি নিরাপদ, সমান ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।
আমি বাংলাদেশের সকল কন্যাশিশু, তাদের অভিভাবক এবং দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।”