বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার — বাণিজ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২৭, ২০২৬, ২১:৩৮ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ব্যবসা শুরু, লাইসেন্স প্রদান, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে দ্রুতগতির সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।
আজ রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ‘শিল্পখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তিনি বিজিএমইএ-কে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সংগঠিত ব্যবসায়িক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত—যেমন চামড়া, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাজ নির্মাণ—উন্নয়ন হলেও স্বল্পমেয়াদে কোনো খাতই তৈরি পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তাই অর্থনীতিতে এই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী আরো বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স প্রাপ্তিতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও, এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই উদ্যোক্তারা আমদানি নিবন্ধন সনদ (IRC) এবং অন্যান্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়ে যাবেন, যার ফলে দ্রুত যন্ত্রপাতি আমদানি ও শিল্প স্থাপন সম্ভব হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে এবং শিল্প স্থাপনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সকল সেবা অনলাইনে প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সফল মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার ফলে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন। সরকার ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়।
জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির পাশাপাশি আরো একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫৫০–৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। তাই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, যা শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। স্বাগত বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক।