বিয়ে বন্ধের পরও আয়োজন, ১৬ বছরের কলেজছাত্রীকে ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায়
বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সোনার বাংলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের আয়োজন বন্ধ করেছে প্রশাসন। পরে মেয়েটিকে ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা খাতুনের দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের বেলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ওই ছাত্রীর বাল্যবিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্টাফ মোখলেছুর ও আক্তারুল, সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার ইবাদুল ইসলাম এবং গ্রাম পুলিশ সদস্যরা মেয়েটির বাড়িতে যান। এ সময় মেয়ের বাবা বিয়ের আয়োজনের কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁকে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়। মুচলেকায় ভবিষ্যতে বাল্যবিয়ে দেওয়া হলে আইনানুগ শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযান শেষে দুপুরে জেলা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটির কাছে খবর আসে, বিয়ে বন্ধের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ওই বাড়িতে আবারও বিয়ের প্রস্তুতি চলছে এবং অতিথিদের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। পরে কমিটির নির্দেশনায় সাংবাদিক মেহেদী নেওয়াজ সোহাগ, ইউপি দফাদার ইবাদুল ইসলাম ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজনের সত্যতা পান।
এ সময় মেয়েটিকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, সে নানার বাড়িতে গেছে। বিষয়টি কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নূরুন্নাহার এবং কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান রিমুকে জানানো হয়।
পরে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটির বাবাকে ডাকলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ পর মেয়েটিকে হেঁটে বাড়িতে ফিরতে দেখা যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, তার বিয়ে হয়নি। তবে এক ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দিলে সে আত্মহত্যা করবে বলেও জানায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর ইউএনও আরিফুল ইসলামের পরামর্শে মেয়েটিকে ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা খাতুনের দায়িত্বে রাখা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়েটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো ধরনের বিয়ের আয়োজন না করার জন্য পরিবারের সদস্যদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।