ডিজিটাল রূপান্তরে বদলে যাচ্ছে টিসিবি: ভর্তুকি ও পরিচালন ব্যয়ে বড় সাফল্য
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে কার্যক্রমে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগী দৌরাত্ম্য হ্রাস, সরাসরি ব্যাংক API লেনদেন এবং স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্থাটি পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও বিপুল ব্যয় সাশ্রয় নিশ্চিত করেছে।
আজ ঢাকার আর্মি গলফ ক্লাবের গলফ গার্ডেনে আয়োজিত ‘ট্রেড উইথ টিসিবি’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ও বিআইডিএস গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক ড. বদরুন নেসা আহমেদ।
দেশব্যাপী স্বল্প আয়ের ১ কোটি পরিবারের মাঝে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে টিসিবি। এ পর্যন্ত ৭৯ লাখ ৯০ হাজার প্রকৃত সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল ডেটাবেজে ভেরিফাই করা হয়েছে এবং ৭৩ লাখ ৭ হাজার স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড সক্রিয় করা হয়েছে। ডিজিটাল e-KYC ও NID যাচাইকরণের মাধ্যমে প্রায় ৫৯ লাখ ভুয়া ও অযোগ্য আবেদন বাতিল করা হয়েছে, ফলে পণ্যের অপচয় ও কালোবাজারি বন্ধ হয়েছে।
আধুনিক ডিজিটাল ট্রেজারি এবং সরাসরি গুদাম থেকে ডিলারের কাছে পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে সংস্থাটি প্রতি বছর প্রায় ৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় করছে। এর মধ্যে ব্যাংক API-এর মাধ্যমে সরাসরি টাকা জমায় ৬০ কোটি টাকা এবং নিজস্ব ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থাপনায় ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। বাণিজ্যিক ঋণের সুদ ব্যয় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৫৩৩ কোটি টাকা থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০৬ কোটি টাকায় নেমে আসবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৮ হাজার কোটি টাকার বৃহৎ ক্রয় পরিকল্পনায় মোট বিক্রয় রাজস্ব ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সুবিধাভোগী প্রতি ভর্তুকির হার ১৭ শতাংশ কমানো সম্ভব হচ্ছে। পণ্য তালিকায় সাবান, ডিটারজেন্ট, লবণ, চা, আটা ও মসলার মতো লাভজনক পণ্য যুক্ত করে খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি সমন্বয় করা হচ্ছে।
গ্রাহকসেবা সহজ করতে ‘উপকারী’ (Upokari) স্মার্ট অ্যাপ চালু করেছে টিসিবি। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ঘরে বসেই নিকটস্থ বিক্রয় কেন্দ্র ও পণ্য প্রাপ্তির নোটিফিকেশন পাচ্ছেন এবং এনক্রিপ্ট করা QR কোড স্ক্যান করে পণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন। কার্ড হারিয়ে গেলেও অ্যাপের মাধ্যমে সেবা অব্যাহত থাকবে। সার্বক্ষণিক সেবার জন্য হটলাইন *০৯৬৩৮ ১১১ ৮৮৮* এবং ২৪ ঘণ্টার হোয়াটসঅ্যাপ সেবা চালু রয়েছে।
দরপত্র প্রক্রিয়ায় শতভাগ e-GP নিশ্চিতকরণ, প্রকাশ্যে দরপত্র উন্মুক্তকরণ এবং ডিজিটাল জামানত ও বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরবরাহকারীদের জন্য প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভবিষ্যতে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা প্রদান, AI প্রযুক্তির মাধ্যমে বাজারদর মনিটরিং এবং নিজস্ব ওয়্যারহাউজ সক্ষমতা বাড়িয়ে টিসিবিকে আত্মনির্ভরশীল ও ভর্তুকিমুক্ত সংস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।