• ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষিকে লাভজনক করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
কৃষিকে লাভজনক করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

কৃষকদের আয় বাড়ানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং আধুনিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের কৃষি খাত বর্তমানে আগের মতো লাভজনক না হওয়ায় শ্রমিকেরা এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন। ফলে মাঠপর্যায়ে কৃষিশ্রমিকের সংকট দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং এ কাজে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

উত্তরাঞ্চলে আলুর উৎপাদন ও বাজারমূল্যের বৈষম্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই অঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় তাঁদের রাস্তায় আলু ফেলে দিতে হয়। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে।

তিনি বলেন, আলুর পাশাপাশি টমেটো, অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী হিমাগার এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষি গবেষকদের সাফল্যের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। তিনি ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও গুরুত্ব দেন।

রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর আহ্বান

কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতিমাত্রায় সার প্রয়োগ মাটির ক্ষতি করছে এবং ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিবিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। এ সময় কৃষিবিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি উন্নয়নে জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ

রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি খাতে পরিবর্তন এনেছিলেন।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের সুস্থতা কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তুলে ধরেন।

এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল ঘুরে দেখেন। পরে উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রের (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...