• ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ঢাকা ওয়াসার উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও পছন্দের রাজস্ব জোনে পদায়ন নিয়ে তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও ঢাকা ওয়াসায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ভাগ্নিজামাতা পরিচয় ব্যবহার করে বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের আমলেও ঢাকা ওয়াসার কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি ও উপদেষ্টা পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের প্রভাব কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে, ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন রাজস্ব জোনে দায়িত্ব পালনকালে রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলা। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজধানীর অভিজাত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের নামে জমি কেনার পাশাপাশি তিনি একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাঁর বসবাসের ঠিকানা হিসেবে প্লট-১৪৫, রোড-৭, ব্লক-আই, বসুন্ধরা, ঢাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বরিশালের মুলাদী উপজেলায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে বাবা, মা ও স্ত্রীর নামে এবং বেনামে একাধিক সম্পদ কেনার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা, অর্জনের উৎস ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ঢাকা ওয়াসা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছে। তবে ওই চিঠির তারিখ, স্মারক নম্বর এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সর্বশেষ রাজস্ব জোন-৯-এ উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর বদলির আদেশ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ওই পদায়ন হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান দায়িত্বে সন্তুষ্ট না থাকায় তিনি অন্য কোনো সুবিধাজনক রাজস্ব জোনে পদায়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব লুৎফর রহমান বাঘা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে তিনি মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের নয় সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ও আব্দুল মালেক বাড়ির নেতৃত্বাধীন মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তিনি সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তাঁর মা সালমা বেগম মুলাদী পৌরসভার আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নারী কাউন্সিলর ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা ওয়াসায় তাঁর অবস্থান সুদৃঢ় ছিল। সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি প্রভাবশালী অবস্থানে থাকায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদায়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সম্পদ বিবরণী ও কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল প্রয়োজন। এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এবং ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থানও পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।