• ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

 ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ণ
 ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নে সরকার সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম জোরদার এবং ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাণীতে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল ও উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশে দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের মনে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে। দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বানও এ উৎসবের মূল বার্তা।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় আবহমানকাল ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে। এ আয়োজন দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়; এর সঙ্গে বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

তিনি বলেন, এ উৎসব সমাজের সব স্তরের মানুষকে সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য ও সুন্দরের আলোয় উদ্ভাসিত হোক এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি আহ্বান জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায় যেন নির্ভয়ে, স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয় এবং অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে থাকার পথ দেখায়। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে সবাইকে নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রসহ সবার দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে দুর্গোৎসবের আনন্দ অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা সবার ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি দেশে ও বিদেশে দুর্গোৎসব উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।