• ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিনখানে রাজউকের নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ: ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ

ইমারত পরিদর্শকের যোগসাজশের দাবি স্থানীয়দের, প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশীকে হুমকি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১৩, ২০২৬, ১৫:১৬ অপরাহ্ণ
দক্ষিনখানে রাজউকের নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ: ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

রাজধানীর দক্ষিনখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকায় রাজউকের ( রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) অনুমোদিত নকশাকে বৃদ্ধাঙ্গুুুলি দেখিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ চলছে। ফায়দাবাদ, গনকবরস্থানের পশ্চিম গেট সংলগ্ন ৩৪৯১ নম্বর হোল্ডিংয়ে (ফায়দাবাদ মৌজা) নকশা বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের এই অভিযোগ উঠেছে মো: আব্দুর মালেক গং এর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় এই অনিয়মের প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশী মো: সালাউদ্দিনকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে মর্মে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মালেক গং এর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে এবং ভুক্তভোগী সালাউদ্দিনের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজউক থেকে ভবন নির্মাণের অনুমতি নিলেও তার তোয়াক্কা করছেন না অভিযুক্ত আব্দুল মালেক। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের চারপাশে নিদ্রিষ্ট পরিমাণ জায়গা ছাড়ার নিয়ম থাকলেও, তা মানা হচ্ছে না। চারপাশে কোনো প্রকার জায়গা না রেখেই গড়ে তোলা হচ্ছে এই ইমারত। এর ফলে প্রতিবেশীদে চলাচলের পথ ও অগ্নিনির্বাপনসহ জানমালের নিরাপত্তা চরম ঝুকির মুখে পড়েছে। ভুক্তভোগী মো: সালাউদ্দিন জানান, আমি রাজউকের নকশা অনুযায়ী কাজ করতে বললে আব্দুল মালেক ও তার লোকজন আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। আমি একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এই ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজউকের ইমারত পরিদর্শক এর রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ উঠেছে ইমারত পরিদর্শকের প্রত্যক্ষ সহযোগীতা ও যোগসাজশেই রাজউকের আইন অমান্য করে এই ভবন নির্মিত হচ্ছে। ভূক্তভোগী এর আগে রাজউকে একাধিকবার মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালেও রহস্যজনক কারনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে তিনি রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নকশা বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন শহরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ভূমিকম্প বা অগ্নিকান্ডের মতো দুর্যোগে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। রাজউকের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার আসকারাতেই সাধারন মানুষ আইন অমান্য করার সাহস পাচ্ছে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মালেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে, তিনি বলেন, আমি রাজউক কর্মকতার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই কাজ করছি। আপনারা রাজউকের সাথে যোগাযোগ করেন। সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাকে দপ্তরে পাওয়া যায়নি।
ফায়দাবাদ এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে রাজউকের এই ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। পাশাপাশি যে কর্মকর্তার অবহেলায় এই অনিয়ম ডালপালা মেলছে, তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
রাজউক কর্তৃপক্ষ কি শেষ পর্যন্ত এই নিয়ম বহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবে, নাকি অদৃশ্য কোন চাদরে ঢাকা পড়ে থাকবে এই অনিয়ম, এখন সেটাই দেখার বিষয়।