ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: শেখ রবিউল আলম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার, যা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ধর্মীয় অধিকার কারও করুণা বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় সবার আগে বাংলাদেশি। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোত্রের ভিত্তিতে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। সব ধর্মের মানুষের অধিকার স্বীকার করার পাশাপাশি বাস্তবেও তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিক যাতে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, ধর্ম মানুষের আধ্যাত্মিক চর্চা ও স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম। ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দল নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করুক, তা কাম্য নয়। ধর্মীয় চর্চার পরিবেশ হতে হবে স্বাধীন, নিরাপদ ও সবার জন্য উন্মুক্ত।
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আন্তমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। উৎসবের সময় মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানবাহন চলাচল সচল রাখা এবং বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় সেবা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজার সময় ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত এবং ঢাকায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উৎসবের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, দুর্গাপূজা উদযাপনে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। সব ধর্মের মানুষ যাতে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
নিজ নির্বাচনী এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে শেখ রবিউল আলম বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার সব নাগরিকের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা তাঁর দায়িত্ব। জনগণের ভোট ও আস্থা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ আমানত। কোনো নাগরিকের যৌক্তিক সমস্যা বা অধিকারসংক্রান্ত বিষয় তাঁর নজরে এলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকায় স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত সরকারি জমি রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট জমিতে সরকারের অন্য কোনো পরিকল্পনা না থাকলে ছোট পরিসরে হলেও স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর অস্থায়ীভাবে পূজামণ্ডপ স্থাপন করতে গিয়ে আয়োজকদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। ধর্মীয় চর্চার সুবিধার্থে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মন্ত্রী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।