• ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদ ফ্যাশনে গারো ঐতিহ্যের ছোঁয়া, নতুন প্রজন্মের পছন্দে ‘দকবান্দা’

পাহাড়ি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের প্রতীক ঐতিহ্যবাহী পোশাক এখন জায়গা করে নিচ্ছে নগর জীবনের লাইফস্টাইল ও উৎসব ফ্যাশনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১১, ২০২৬, ০০:০৬ পূর্বাহ্ণ
ঈদ ফ্যাশনে গারো ঐতিহ্যের ছোঁয়া, নতুন প্রজন্মের পছন্দে ‘দকবান্দা’
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য সম্প্রদায়ের নিজস্ব জীবনধারা, পোশাক ও নান্দনিকতার গল্প। সময়ের সঙ্গে নগরজীবনের ফ্যাশন বদলালেও ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি; বরং নতুন প্রজন্ম এখন খুঁজছে এমন পোশাক, যেখানে থাকবে ভিন্ন সংস্কৃতির ছাপ, শিকড়ের গল্প এবং নিজস্বতার প্রকাশ।

ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরই ফ্যাশন অঙ্গনে নতুন নতুন ধারা দেখা যায়। তবে এবার সেই ধারায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘দকবান্দা’। পাহাড়ি সংস্কৃতির এই বিশেষ পোশাককে আধুনিক রুচির সঙ্গে মিলিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে Tribal Crafts

গারো সম্প্রদায়ের কাছে ‘দকবান্দা’ কেবল একটি পোশাক নয়; এটি তাদের পরিচয়, ঐতিহ্য ও জীবনদর্শনের অংশ। একসময় গারো নারীরা সম্পূর্ণ হাতে বুনে এই পোশাক তৈরি করতেন। এর সঙ্গে ব্যবহৃত হতো ‘গান্না’ নামের আরেক ধরনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। প্রতিটি বুননে থাকত প্রকৃতির প্রতি তাদের গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন।

বিশেষ করে দকবান্দার নকশায় পাহাড়ি ফুল, গাছপালা ও প্রকৃতির বিভিন্ন প্রতীক ফুটে ওঠে। পাড়জুড়ে দেখা যায় চোখের আকৃতির বিশেষ অলংকরণ, যা গারো সংস্কৃতিতে সুরক্ষা, বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে ‘স্টোরিটেলিং ফ্যাশন’-এর প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। অর্থাৎ শুধু সুন্দর পোশাক নয়, সেই পোশাকের পেছনের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানবিক গল্পও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ কারণেই আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ধীরে ধীরে শহুরে ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠছে।

নগরজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও অনেক তরুণ-তরুণী এখন হাতে বোনা কাপড়, প্রাকৃতিক রঙ ও ঐতিহ্যবাহী নকশার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। তাদের কাছে এটি শুধু ফ্যাশন নয়, বরং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানানোরও একটি উপায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন স্থানীয় সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করছে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বাড়াচ্ছে।

গারো সংস্কৃতির পোশাককে আধুনিক উপস্থাপনায় সামনে আনার এই উদ্যোগ তাই শুধু ঈদ ফ্যাশনের নতুনত্ব নয়; এটি বাংলাদেশের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে নতুনভাবে উদযাপনেরও একটি প্রচেষ্টা।