বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী চীনের এক্সিম ব্যাংক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ গ্রিড শক্তিশালীকরণ এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নেটওয়ার্ক উন্নয়নে অর্থায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং।
মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) বিদ্যুৎ গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য প্রকল্পেও ব্যাংকটির অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ। এ লক্ষ্য অর্জনে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ, স্মার্ট গ্রিড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক উন্নয়নে দ্রুত অর্থায়ন বিবেচনার জন্য তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৬-এর আওতায় বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিকায়ন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরবর্তী পর্যায়ের সম্প্রসারণ এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার প্রকল্পে অর্থায়ন দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাংকটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। সবুজ জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক শুল্ক ও কর হ্রাসের উদ্যোগকেও স্বাগত জানান তিনি।
ওয়াং চুনইং সৌরবিদ্যুৎ, বিশেষ করে ভূমিতে স্থাপিত ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে জিটুজি গ্রিড শক্তিশালীকরণ এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থায়ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও সম্মত হন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।