• ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে উৎসাহিত করে বলে উল্লেখ করে তিনি তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির কার্যক্রমের প্রশংসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও সমাজের জন্য ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করে।

বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎ করা ব্যক্তিরা হলেন—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো ভোলার রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তিনজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তাঁদের কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ গঠনে তাঁদের মতো মানুষের প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে আরও মানুষ এগিয়ে এলে দেশ গঠনের কাজ সহজ হবে।

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা

নায়লা শারাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন।

গত সাত বছর ধরে তিনি নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা সহজ করতে নিজ উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি।

দুই হাত না থাকলেও প্রতিষ্ঠা করেছেন বিদ্যালয়

নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। পরে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’।

নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। সেখানে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়ে লিখেই তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

আলতাফ হোসেনের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালয়টির জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিন দশক ধরে বৃক্ষরোপণ করছেন বাবুল

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন। ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখানকার উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন বাবুল। তাঁর লাগানো অধিকাংশ গাছ এখন পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং তাঁদের এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।