পুলিশের জন্য ৬ হাজার ৬০৮ কোটি টাকায় ৫,৮৩০টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
পুলিশের যানবাহন সংকট মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম জোরদারে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার জন্য ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রকল্প দুটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন কিনতে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। আর দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার ও অপরাধস্থল পরিদর্শনের কাজে ব্যবহারের জন্য ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আগামী ২৫ অক্টোবর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় প্রকল্প দুটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত। পুরো ব্যয় সরকার বহন করবে। তবে এখনো কোনো প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। বাস্তবায়ন নির্ভর করছে একনেকের সিদ্ধান্তের ওপর।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পুলিশের বিদ্যমান যানবাহনের সংখ্যা ও কার্যক্রমের প্রয়োজনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় সেবা দেওয়ার জন্য বর্তমানে ১ হাজার ২৩৭টি যানবাহন রয়েছে। ফলে প্রতিটি স্টেশনে গড়ে দুটি করে যানবাহনও নেই। এ ছাড়া বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি।
এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত টহল, জরুরি ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। প্রস্তাবিত যানবাহন কেনা হলে পুলিশের চলাচল সক্ষমতা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে অপরাধ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা ও নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়তে পারে।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের আওতায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহন, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী যান, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব যানবাহন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে আলামত সংগ্রহে সহায়তা করবে।
দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করতেও স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জলযান দিয়ে নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
যানবাহন কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের আওতায় ৬৫০ জনকে হালকা যান চালনা ও মেকানিকস, ৩০০ জনকে ভারী যান চালনা ও মেকানিকস এবং ৫০ জনকে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ প্রকল্পে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম এবং যন্ত্রপাতি কেনার জন্য দেড় কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জন কর্মীকে ড্রাইভিং ও মেকানিকস প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে মেকানিকস প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকল্প দুটির সম্মিলিত ব্যয় হবে ২ হাজার ৮০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
উভয় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে হকস বে। প্রতিটি প্রকল্পের অর্থনৈতিক মূল্যায়নে ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১ দশমিক ০৫ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যবহৃত অনুমান অনুযায়ী, প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যয়ের তুলনায় সামান্য বেশি।
অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের আনুমানিক নিট বর্তমান মূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এ মূল্য ১৭৬ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় প্রকল্পের হিসাব করা হয়েছে ১২ শতাংশ বাট্টার হার ধরে।
অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিদেশে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রস্তাবটি বাংলাদেশ গণপ্রশিক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা হয়। নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গেও প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি পৃথকভাবে একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলে দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ বিনিয়োগে জননিরাপত্তার কতটা উন্নতি হবে, তা নির্ভর করবে কার্যকর ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন বণ্টন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাড়তি সক্ষমতাকে দ্রুত সাড়া দেওয়া ও কার্যকর পুলিশি কার্যক্রমে রূপান্তরের ওপর।