দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়ে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপন ও স্বজনদের সান্নিধ্যে সময় কাটাতে সোমবার বিকেল থেকেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে বেড়েছে যাত্রীদের ভিড়।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে পরিবারের সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন। পাশাপাশি দীর্ঘ ছুটির সুযোগে অন্যরাও স্বজনদের সঙ্গে কয়েকটি দিন কাটাতে ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে।
সোমবার বিকেল থেকেই রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে যাত্রীদের বাড়তি উপস্থিতি দেখা যায়। কর্মব্যস্ত নগরজীবন পেছনে ফেলে বাড়ি ফেরার পথে কারও হাতে ছিল ব্যাগ, আবার কেউ পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উৎসবের আনন্দ ও প্রিয়জনদের কাছে ফেরার আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকে ছুটি শুরুর আগেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়ি ও আত্মীয়স্বজনের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। ফলে বিভিন্ন পরিবহনকেন্দ্রে আগেভাগেই যাত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি যাত্রী দেখা যায়। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চে বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল যাত্রীদের মধ্যে। কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকা অনেকেই পূজার সময় পরিবারের সঙ্গে কাটাতে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন।
বরিশালগামী লঞ্চের অপেক্ষায় থাকা ভূবন চন্দ্র রায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) বলেন, ‘বাড়িতে সবাই অপেক্ষা করছে। পূজার সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারব, এটাই সবচেয়ে আনন্দের। গ্রামের বাড়িতে মা-বাবা অপেক্ষায় আছেন।’
রাজধানীর আরামবাগে কুমিল্লাগামী তিশা প্লাস বাসের কাউন্টারেও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। সেখানে কর্মরত জয়নাল বাসসকে বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় সোমবার যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। তবে যাত্রীদের চাপ বাড়লেও আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশনেও ঘরমুখো যাত্রীদের বাড়তি উপস্থিতি দেখা গেছে। পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিয়ে অনেকে ট্রেন ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দীর্ঘ ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগেভাগে ঢাকা ছাড়ছেন তাঁরা, যাতে পূজার দিনগুলো স্বজনদের সঙ্গে কাটানো যায়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শারদীয় দুর্গাপূজা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং পরিচিত পরিবেশে সময় কাটানোর উপলক্ষ। কর্মসূত্রে রাজধানীতে বসবাসকারী অনেকেই সারা বছর এমন ছুটির অপেক্ষায় থাকেন। পূজার প্রস্তুতিতে পরিবারের পাশে থাকা, মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা শৈশবের পরিচিত পরিবেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা তাঁদের বাড়ি ফেরার আনন্দ বাড়িয়ে দেয়।
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ছুটিকে ঘিরে গণপরিবহনে যাত্রীর চাপ বাড়ায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে।
টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানীর ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে মানুষ ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। কেউ যাচ্ছেন গ্রামের বাড়িতে, কেউবা আত্মীয়স্বজনের কাছে। উৎসবের আনন্দ ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রত্যাশায় তাঁদের এই যাত্রা পরিবার ও শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আবেগঘন উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।