• ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ৫, ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন।

আজ চট্টগ্রামের রাউজানে হালদা নদীর তীরবর্তী ছাত্তারঘাট এলাকায় হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় পর্যায়)-এর আওতায় হালদা নদীর মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, হালদা নদীতে মাছের পোনা আহরণকারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে খুব শিগগিরই তাদের মধ্যে স্পিডবোট বিতরণ করা হবে। তবে এ সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে মা-মাছ বা মাছের পোনা আহরণ করা যাবে না।

মন্ত্রী আরো বলেন, কৃষি সেচের সুবিধার্থে নির্মিত বিভিন্ন স্লুইসগেট বর্তমানে হালদা নদীতে মাছের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইভাবে যেখানে সেচের প্রয়োজনে রাবার ড্যাম নির্মাণ অপরিহার্য, সেখানে বিকল্প হিসেবে সেচ পাম্প সরবরাহের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

আমিন উর রশিদ বলেন, হালদা নদী রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নদী তীরবর্তী জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রকল্পের আওতায় হালদা তীরবর্তী এলাকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, হালদা নদীতে ডিম আহরণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন আরো বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখবে। একইসঙ্গে নদীর পানি দূষণমুক্ত ও মাছের জন্য উপযোগী রাখতে শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্য নির্গমন নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কারখানা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমিন উর রশিদ আরো বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষি সেচের পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমান সরকারও কৃষকবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সহায়তামূলক উদ্যোগ কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিতের মাধ্যমে হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি হালদা নদী তীরবর্তী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন বাস্তবধর্মী প্রস্তাব তুলে ধরেন এবং এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ খালেদ কনক, মৎস্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন, স্হানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ-সহ জেলে ও মৎস্যজীবীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রী নদী থেকে আহরিত ডিম থেকে উৎপাদিত রেণু আহরণকারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন এবং ছাত্তারঘাটে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় পর্যায়)-এর প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী অঞ্চলের ডিম সংগ্রহকারী শফিউল আলম এবং রাউজান অঞ্চলের ডিম সংগ্রহকারী দলের প্রতিনিধি রোসঙ্গী আলম।