• ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতির আগমনে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০০:২৯ পূর্বাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির আগমনে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা শহরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উচ্ছ্বাস।

ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলেই কেটেছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শৈশব-কৈশোর। নিজ বাড়ির পাশেই শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়মাঠ। শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া ও রাস্তাঘাট তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত। সেই প্রিয় শহরই এখন তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বরণ করে নিতে ব্যস্ত।

আগামী রোববার প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করতে দিন-রাত কাজ করছেন পৌরসভার কর্মীরা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস। প্রিয় সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ শহরে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁওবাসী।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় সফর হলেও এটিকে ঘিরে জেলার মানুষের আগ্রহ ও আবেগ আরও বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ, কারও কাছে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। আবার ঠাকুরগাঁওয়ের অনেকের কাছে তিনি আজও পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’—নিজ শহরের আপনজন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ শেকড়ের টানে ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁর এই সফর তাই স্থানীয় মানুষের কাছে গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা ও আবেগের বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো: লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।

কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহরের কালীবাড়িতে নিজের বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।

সফরের দ্বিতীয় দিন রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে সার্কিট হাউসে যাবেন। পরে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর।

এদিকে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সফরের সম্ভাব্য স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানাক।’

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...