দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর সরকার: আইনমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ তদারকি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দুর্নীতি, অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সরকারি বরাদ্দ জনগণের করের অর্থ। তাই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হবে না।
শুক্রবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (আইইবি) ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোথাও অনিয়ম দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের একার পক্ষে এলাকার সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সড়ক কিংবা অন্য কোনো অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের কাজ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে। জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং অনিয়মের সুযোগ কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এ নিয়ে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূর করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকূপায় মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় কিংবা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকসহ অন্য কোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তদবির করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে হেনস্তা করার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে অবস্থান নিতে হবে। কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ ও দুর্নীতির পক্ষেও কোনো অবস্থান নেওয়া যাবে না।
শৈলকূপার উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়নেও বিভিন্ন সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়ক তালিকাভুক্তির আওতায় এসেছে।
এসব সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে শৈলকূপা উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।