দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সরকারি ঋণের হার কম, আইএমএফের প্রাক্কলন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যভিত্তিক ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪০ শতাংশ হতে পারে। এ হার ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের তুলনায় কম। তবে ঋণের অনুপাত কম থাকলেও টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ হতে পারে। একই সময়ে ভারতের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৮৩ শতাংশ, পাকিস্তানের ৭০ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ৯৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে মালদ্বীপের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ১৩১ শতাংশ এবং ভুটানের ১১৬ শতাংশ হতে পারে। নেপালের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৪৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বলে প্রাক্কলনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের হার ভারতের অর্ধেকেরও কম। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায়ও বাংলাদেশের ঋণের অনুপাত কম। অন্যদিকে, মালদ্বীপ ও ভুটানের সরকারি ঋণের পরিমাণ তাদের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের তুলনায় বেশি হতে পারে।
অর্থনীতির আকারের তুলনায় সরকারি ঋণের এই পার্থক্য বাংলাদেশের তুলনামূলক কম ঋণ অনুপাতের অবস্থান তুলে ধরে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উন্নয়ন ব্যয়ের চাপের মধ্যে ঋণের অনুপাত নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত কম থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত নমনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে ঋণ গ্রহণে টেকসই নীতি অনুসরণ, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের তুলনামূলক কম ঋণ অনুপাত ধরে রাখতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি নতুন ঋণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল নিশ্চিত করা এবং ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উন্নয়ন চাহিদা পূরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সতর্ক ঋণ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।