• ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়াসার প্রকল্পে দুই মাসে অগ্রগতি না হলে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের অপসারণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ণ
ওয়াসার প্রকল্পে দুই মাসে অগ্রগতি না হলে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের অপসারণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পে আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় পাইপলাইন সংযোগ প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে হবে। পাশাপাশি পূর্বাচল এলাকায় পানি সরবরাহের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের নির্দেশ দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ওয়াসা বোর্ডগুলো জনসেবামূলক এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে বা অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করছে। এতে কাজের গতি কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রমের ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকা মহানগরীতে জনসংখ্যা ও বাসাবাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদাও বাড়ছে। অথচ গত সাত মাসে ওয়াসার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য নতুন উদ্ভাবন বা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত গতি দেখা যায়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, পানির সংকট দেখা দিলে এর দায় সরকারের ওপরই বর্তায়। তাই নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ওয়াসার আর্থিক সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেবার মান বজায় রেখে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এতে বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে এবং নিজস্ব তহবিল থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি মিটার রিডিং ও বিলিং কার্যক্রমে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ২০৫০ সালের পানির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা ওয়াসার আধুনিকায়নের জন্য নতুন ও পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলেন।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন ও সিবিএ নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।