• ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৩:১১ পূর্বাহ্ণ
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে সরকার
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

শুক্রবার বিকেলে মোংলার নারিকেলতলা মাঠে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের দাবিতে আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ স্লোগানে ধরিত্রী রায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপও কমানো যাবে।

তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট জ্বালানি উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন ভবন, স্কুল-কলেজসহ সরকারি ভবনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসহ প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হতে পারে, এমন কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করারও দাবি জানান তাঁরা।

বক্তারা সুন্দরবন সংরক্ষণে বিজ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব, ন্যায্য, জনকেন্দ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

ধরিত্রী রায় আমরা (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান মানিক, কৃষক নেতা বদরুল আলম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র এবং সচেতন ফাউন্ডেশনের মো. হাবিবুর রহমান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন মিশন গ্রিন বাংলাদেশের আহসান রনি, হাওর অঞ্চলবাসীর জাকিয়া শিশির, কসমস সংস্থার মেহনাজ মালা, ব্রাইটার্সের সাইদুর রহমান সিয়াম, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের মাসফিকুল হাসান টনি, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ারের জুবায়ের ইসলাম এবং ওয়েব ফাউন্ডেশনের আসাদুজ্জামান তুহিন।

সমাবেশ শেষে বাঘ মহড়া, পুতুল খেলা, বাউল গান ও গাজীর গানের আয়োজন করা হয়। এসব পরিবেশনার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।