শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত: হুইপ অপু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত, স্থানীয় মানুষের প্রতি ভালোবাসা, জমির প্রাপ্যতা ও যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা বিবেচনায় প্রস্তাবিত শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
প্রস্তাবিত শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
শুক্রবার শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যায় জয়ন্তী নদীসংলগ্ন প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ অপু বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথার পরিবর্তে কাজের মাধ্যমে শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ দিচ্ছেন। দেশের অন্যান্য জেলার মানুষের প্রতিও তাঁর ভালোবাসা রয়েছে। তবে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি তাঁর বিশেষ আন্তরিকতা প্রকাশ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন প্রসঙ্গে অপু বলেন, একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বিপুল পরিমাণ জমি ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। জমির প্রাপ্যতা, পরিবেশগত উপযোগিতা ও অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করে স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্য কোনো স্থানে জমি অধিগ্রহণের ব্যয় বহন করা কঠিন হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে হুইপ বলেন, এলাকার মানুষ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেদের জমি ও বসতবাড়ি ছেড়ে দিতেও সম্মতি জানিয়েছেন। তাঁদের এ ত্যাগ ও সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে বরিশালগামী রেললাইন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলপথটি নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট হয়ে বরিশাল এবং পায়রা বন্দরের দিকে নেওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ভোলা থেকে সেতুর মাধ্যমে মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে একটি প্রস্তাবিত জাতীয় মহাসড়ক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানগত গুরুত্ব তুলে ধরে হুইপ অপু বলেন, চাঁদপুর, বরিশাল, মাদারীপুর ও বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে প্রস্তাবিত স্থানটি যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিদর্শনকালে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হোসেন উদ্দিন শেখর, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।