শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষ হতে হবে: অর্থমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৯, ২০২৬, ১৫:৩৭ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার, ডিজিটাল শিক্ষা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে কম্পিউটার পরীক্ষাগার স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শুধু প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যথেষ্ট নয়; কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে শেখার সক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।
আজ দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ তজল্লী আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উপপরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী।
কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের সাফল্যের পেছনে পরিবার ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে সব অর্জন করা সম্ভব নয়। যে পরিবারে শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নেই, সেখানে ভালো ফলাফল অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে। বিদ্যালয়ে প্রবেশের পর তাঁর শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতি মনে পড়ে যায়।
স্কুলের সমাবেশ, ক্রিকেট খেলা ও গ্রন্থাগারকে ঘিরে শৈশবের স্মৃতি এখনো তাঁর মনে অমলিন রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানুষ জীবনের অনেক ঘটনা ভুলে গেলেও স্কুলজীবনের স্মৃতি সহজে ভুলতে পারে না। তাঁর শিক্ষকদের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের দপ্তরিসহ বিভিন্নভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের কথাও এখনো মনে আছে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়টির পরিচালনা, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা তাঁর কাছে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার আগের মতো কার্যকর না থাকার বিষয়টি জানতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব অনেক। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে কম্পিউটার পরীক্ষাগার না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কম্পিউটার পরীক্ষাগার ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। বিদ্যালয়টিতে একটি কম্পিউটার পরীক্ষাগার স্থাপন করে দেওয়া হবে।
দেশের প্রথম সাইকেল চলাচলের পৃথক পথ উদ্বোধন
এর আগে সকালে নগরীর পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত সাইকেল চলাচলের পৃথক পথ উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে শুধু সাইকেল আরোহীরা চলাচল করতে পারবেন। এ ধরনের উদ্যোগ দেশে প্রথম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে সড়কের পাশে সাইকেল চালানোর জন্য পৃথক পথ রয়েছে। সেসব দেশের নাগরিকেরা সাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলে যান। এতে তাঁদের শরীরচর্চাও হয় এবং অসুস্থতা ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার কম থাকে। বর্তমান সরকারও দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে চায়।
চট্টগ্রাম নগরীতে আরও চার থেকে পাঁচটি সাইকেল চলাচলের পথ নির্মাণের জন্য মেয়রকে অনুরোধ জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, শুধু বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীল না থেকে সাইকেল ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে হবে।
নগরীর খালগুলোর দুই পাশে যেখানে সম্ভব, সেখানে হাঁটার পথ নির্মাণের জন্যও মেয়রকে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। মানুষের নির্বিঘ্নে হাঁটা ও দৌড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দৌড়, উচ্চলম্ফ ও দীর্ঘলম্ফের মতো ইভেন্টে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, নারী-পুরুষ সবার হাঁটার সুবিধার্থে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটার পথ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নগরজীবনে মানুষ ক্রমেই আবাসিক ভবন ও অ্যাপার্টমেন্টকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ কমছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হাঁটা, দৌড়ানো ও শরীরচর্চার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।