• ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আড়াই বছর পর ভারতের জেল থেকে মুক্তি, বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ৫ বাংলাদেশি নারী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ৩০, ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ণ
আড়াই বছর পর ভারতের জেল থেকে মুক্তি, বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ৫ বাংলাদেশি নারী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

উন্নত জীবনের আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে ভারতে গিয়ে কারাভোগ করা পাঁচ বাংলাদেশি নারী বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘ আড়াই বছর ভারতের কারাগারে থাকার পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তাদের দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়।

ভারতের হরিদাসপুর চেকপোস্টে ভারতীয় ইমিগ্রেশন ও বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) সদস্যরা বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হস্তান্তর করেন।

দেশে ফেরা পাঁচ নারী হলেন—বাগেরহাট জেলার সামসুল হকের মেয়ে শিমু আক্তার ও শারমিন খাতুন, টাঙ্গাইল জেলার মো. বাদশাহ মিয়ার মেয়ে পাপিয়া বাদশা, যশোর জেলার সিদ্দিক মিয়ার মেয়ে লাভলী খাতুন এবং নড়াইল জেলার দুলাল মোল্লার মেয়ে রোজিনা খাতুন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের তৃতীয় সচিব এবং ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে দেওয়া ট্রাভেল পারমিট ও লিভ ইন্ডিয়া নোটিশের ভিত্তিতে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে হরিদাসপুর চেকপোস্টে এ হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, ‘ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে দালালদের মাধ্যমে তারা পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই অবৈধ পথে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে দেশটির পুলিশের হাতে আটক হয়ে প্রায় আড়াই বছর কারাভোগ করেন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের মাধ্যমে আজ তারা দেশে ফিরেছেন।’

তিনি আরও বলেন, দেশে ফেরার পর তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মুহিত চৌধুরী বলেন, ‘ফেরত আসা নারীদের যশোরের শেল্টারহোমে রাখা হবে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হবে।’

প্রতিবছর দালালের প্রলোভনে পড়ে অনেক বাংলাদেশি নারী ও শিশু অবৈধ পথে ভারতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতায় পড়েন। সীমান্ত এলাকায় সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।