• ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ পাবেন ৫ হাজার নার্স-টেকনোলজিস্ট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ পাবেন ৫ হাজার নার্স-টেকনোলজিস্ট
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসব্যাপী ডায়ালাইসিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট—দুই ক্যাটাগরিতে মোট ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা জানান, ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে সিলেটসহ দেশের আরও কয়েকটি স্থানে ব্যাপকভাবে এ প্রশিক্ষণ শুরু হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে সরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চাকরিতে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ এবং বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে। গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ২০ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার থাকলেও এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক। ফলে প্রান্তিক এলাকার রোগীদের চিকিৎসা নিতে বড় শহরে ছুটতে হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়েও এ সেবা সম্প্রসারণের জন্য কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন এবং প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।