• ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সভাপতি হওয়ার কথা মজিবর রহমান সরওয়ারের, শেবাচিম কমিটিতে ব্যতিক্রম কেন ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ২১:৪৮ অপরাহ্ণ
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সভাপতি হওয়ার কথা মজিবর রহমান সরওয়ারের, শেবাচিম কমিটিতে ব্যতিক্রম কেন ?
সংবাদটি শেয়ার করুন....

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা (স্মারক নং ৪৫.১৫৫.১১৪.০০.০০.০০১.২০১৫.১৫৭)  এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি হাসপাতালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে “হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি” পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মির্জা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির শীর্ষ পদ অর্থাৎ সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মেডিকেল কলেজ/হাসপাতাল ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু এই সাধারণ নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এক চিত্র দেখা যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্ষেত্রে। সম্প্রতি পুনর্গঠিত এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনকে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, অর্থাৎ তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্থানস্থল বরিশাল সদর তথা বরিশাল-৫ আসনের প্রতিনিধি নন। ওই আসনে জয়ী হয়েছেন অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার।

এখানেই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী হাসপাতাল যে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত, সেই এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্যেরই কমিটির সভাপতি হওয়ার কথা। সে হিসাবে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার কথা বরিশাল সদর তথা বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্যের। কিন্তু বাস্তবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভিন্ন আসনের একজন পূর্ণমন্ত্রীকে।

বরিশাল সদরের সাধারণ বাসিন্দাদের প্রশ্ন—দেশের অন্যান্য সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেখানে সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্যকেই সভাপতি করা হচ্ছে, সেখানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্ষেত্রে কেন এই ব্যতিক্রম করা হলো? এটি কি নির্দিষ্ট কোনো পৃথক আদেশ বা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে করা হয়েছে, নাকি সাধারণ প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করেই এই কমিটি গঠিত হয়েছে—সে বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন স্থানীয় জনগণ।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। স্বচ্ছতার স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।