• ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে তরুণদের দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

উপশিরোনাম: প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নিশ্চিতের উদ্যোগ; প্রতিভা অন্বেষণ, স্পোর্টস কার্ড ও আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ার পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০০:০০ পূর্বাহ্ণ
মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে তরুণদের দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

তরুণ প্রজন্মকে মাদক, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস শেখায়। সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণদের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার জরুরি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে তিনি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অ্যাথলেটিকসকে ক্রীড়ার জননী বলা হয়। এ খেলায় একজন ক্রীড়াবিদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা হয়। অ্যাথলেটিকসের ভিত্তি মজবুত হলে অন্যান্য খেলাতেও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা জাতীয় গৌরব ও ঐক্যের প্রতীক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উড্ডয়ন এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হওয়া পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তখন সবার পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি। তাই নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সাফল্য অর্জন করতে হবে।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে সব ধরনের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলার প্রসার, সুস্থ জাতি গঠন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দখলমুক্ত করে খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং নতুন মাঠের জন্য উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো প্রতিভা ঝরে না পড়ে, সে জন্য স্কুল, কলেজ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে। এ ছাড়া আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ী সমাজকে দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এ প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান অ্যাথলেটরা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করবেন।

দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি প্রতিযোগিতাটি উৎসর্গ করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।

এর আগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৫৭টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়। সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ ও সুমিতা রানী দাস গেমসের মশাল প্রজ্বলন করেন।

উদ্বোধন শেষে রাষ্ট্রপতি নারী ও পুরুষ বিভাগের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের হাতে মেডেল তুলে দেন।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।