• ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্ব

২৭ অক্টোবর সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক; ইপিএ বাস্তবায়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ২০:৫৬ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্ব
সংবাদটি শেয়ার করুন....

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের প্রত্যাশা করছে টোকিও। বিশেষ করে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জাপান। সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং নতুন অর্থনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। <Cite refs={[“turn574263search1″,”turn574263search7”]}/>

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ২০ অক্টোবর দুই দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের ঘোষণা দেয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম জাপান সফর। <Cite refs={[“turn574263search1″,”turn574263search4”]}/>

সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ অক্টোবর, টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এ উপলক্ষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জাপান সফরকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকায় জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ বাসসের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছে, এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে বলে তারা আশা করছে।

জাপানের প্রত্যাশা, এ সফর আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে উভয় দেশ তাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করতে পারবে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে দেশটিতে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উন্নতি হচ্ছে বলে তারা মনে করছে। বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জাপান।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের সুযোগ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিল্প খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে।

এ ছাড়া জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সফরে নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। <Cite refs={[“turn574263search0″,”turn574263search4”]}/>

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ইপিএ স্বাক্ষরিত হয় ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। চুক্তিটির আওতায় পণ্য ও সেবার বাণিজ্যে বাজারসুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ, ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব, শুল্কপ্রক্রিয়া ও বাণিজ্য সহজীকরণসংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। <Cite refs={[“turn574263search0″,”turn574263search2”]}/>

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নেও জাপানের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, দক্ষ জনশক্তি গঠন এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, সফরটি বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ব্যবসায়িক আস্থা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর জন্য শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকারের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাপান। দেশটির মতে, আলোচনায় অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণের পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি ব্যবসায়িক আস্থা বাড়াতে এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে বলেও মনে করছে দেশটি।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপান। দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন জাপানের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন বা সংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়ন—এই বিষয়গুলোই দুই দেশের অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে থাকবে।

সফরের আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির বাস্তবায়নে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কতটা কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তার ওপরই দুই দেশের সহযোগিতার ভবিষ্যৎ অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্ভর করবে।