• ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১০, ২০২৬, ১৩:৫৮ অপরাহ্ণ
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : প্রধানমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবারও প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। তিনি বলেন, শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানবাধিকার রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। তাই দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।

আজ সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজারবাগে সংঘটিত নির্মম হত্যাযজ্ঞের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এটাই সেই ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইন, যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নৃশংস হামলা চালিয়ে শত শত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সব পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি আরও বলেন, শুধু স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেসব শহিদ পুলিশ সদস্য আত্মত্যাগ করেছিলেন, সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। এই দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার যেন পুলিশ বাহিনীকে জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে—সেই অঙ্গীকারে আজ আবারও শপথ নিতে হবে।

পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্যারেড উপভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই আনন্দঘন আয়োজনে আপনাদের বর্ণিল প্যারেড উপভোগ করেছি। এটি আমার কাছে কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজন মনে হয়নি; বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। জনগণের ভোটে গঠিত বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপ।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর হামলা-মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার অধিকারবঞ্চিত মানুষ এখন একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ চায়। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।