অর্থনীতিকেই কূটনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ১৮, ২০২৬, ২৩:২১ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক ও কূটনৈতিক নীতির মূল ভিত্তি ভূ-রাজনীতি নয়; বরং আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং জনশক্তি রপ্তানির মতো অর্থনৈতিক নিয়ামক। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীন অন্যতম কৌশলগত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারে।
শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি মূলত অর্থনীতিকেন্দ্রিক। বাংলাদেশের মোট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) স্টকের মধ্যে চীনের অবস্থান দ্বিতীয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও এর বড় অংশই আমদানিনির্ভর। বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি এখনও ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকলেও তা বাড়ানোর বিষয়ে চীনের আগ্রহ রয়েছে।
তিনি বলেন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ছাড়া কোনো দেশের অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হতে পারে না। দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থে এ উদ্যোগে ভারতসহ অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণকেও স্বাগত জানানো হবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চীন আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি বাস্তবভিত্তিক কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ করে, যেখানে অর্থনৈতিক স্বার্থই সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। চীন ও ভারত থেকে আমদানি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে রপ্তানি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স—এই অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।