ধানের শীষ দাঁড়িপাল্লা ছাড়াও সক্রিয় হাতপাখা শাপলা কলি ও ট্রাকনল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে এবং অধিকাংশ কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে ২৯৯টি আসনে। সারা দেশে আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে; বন্ধ রয়েছে শপিং মলও।
আজকের এ বহুল আলোচিত ভোটে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন—এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থা, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করেছে এবং একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে।
দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। ইসি জানিয়েছে, ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হবে না। প্রবাসী ও দেশে মিলিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ১১ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় সাড়ে ৪ কোটি তরুণ ভোটার ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
২০০৮ সালের পর এবারই প্রথম অধিকাংশ ভোটার কেন্দ্রে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কমিশন। যদিও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বলছে, নির্বাচন যথেষ্ট অংশগ্রহণমূলক নয়।
সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। দায়িত্বে আছেন প্রায় ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। কমিশনের দাবি, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশি নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে ইসি।
৩০০ আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রয়েছে। ফলে ২৯৯ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে, যার মধ্যে সাধারণ কেন্দ্র ২১ হাজার ২৭৩টি। প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক :
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশি এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এছাড়া নিবন্ধিত সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন, যার মধ্যে বিদেশি ১৫৬ জন।
ভোট গণনা ও ফলাফল :
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একসঙ্গে গণনা করা হবে। কেন্দ্রভিত্তিক প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর তা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে ইসিতে পাঠানো হবে। অধিকাংশ আসনের ফল আজ মধ্যরাতের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে কমিশন।
পোস্টাল ভোট, পর্যবেক্ষক ও ফল ঘোষণা :
বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশ থেকে গতকাল বিকাল ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯২ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৭৬ জন প্রবাসী। ইতোমধ্যে ৯ লাখ ৬৩ হাজার ৩১৮টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট ব্যালট পথে রয়েছে; আজ বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে না পৌঁছালে তা গণনায় ধরা হবে না। পোস্টাল ভোটদাতাদের মধ্যে ৬ লাখ ১১ হাজার ৮১৬ জন সরকারি কর্মচারী, পোলিং কর্মকর্তা ও বন্দি। দায়িত্বে রয়েছেন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার, ৪৩ হাজার ৭৮ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬২ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৫ লাখের বেশি পোলিং অফিসার।
কোন দলের কত প্রার্থী? :
৫০টি দল অংশ নেওয়া এ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন—মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী সংখ্যা সর্বাধিক ২৯১ জন। আওয়ামী লীগ নিবন্ধন স্থগিত থাকায় অংশ নিতে পারছে না। প্রার্থী সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৫৮ জন)। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ২২৪ জন (ইসির হিসেবে ২২৮)। জাতীয় পার্টির ২০০ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯৪ জন এবং এনসিপির ৩২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
নিবন্ধিত দল, কিন্তু ভোটে নেই যারা :
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ভোটে অংশ নিচ্ছে না। নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি।