• ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদ অধিবেশনে অগ্রাধিকার ৬ বিল ও কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১৫:৫৮ অপরাহ্ণ
সংসদ অধিবেশনে অগ্রাধিকার ৬ বিল ও কমিটি গঠন
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠন এবং ছয়টি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

বুধবার সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ হুইপ জানান, বিরোধী দল থেকে সদস্যদের নাম পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিগুলো দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, অধিবেশনটি প্রাথমিকভাবে ৫ থেকে ১০ দিন চলতে পারে। তবে প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এর সময় বাড়ানো হতে পারে।

তৃতীয় অধিবেশনে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসবের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল রয়েছে।

প্রস্তাবিত সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন। সন্তানদের হাতে সম্পত্তি তুলে দেওয়ার পর বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলা ঠেকাতেই এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, রাজপথে আন্দোলন বা অস্থিরতা সৃষ্টি না করে বিরোধী দলের সংসদে এসে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা উচিত। তাঁর ভাষ্য, বিরোধী দল সংসদে জনগণের কথা বলবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করবে—এটাই প্রত্যাশা। ১৭ বছরের নির্যাতন ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ যাতে কেউ ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে চিফ হুইপ জানান, ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিএনপি থেকে সাতজন, জামায়াতে ইসলামী থেকে পাঁচজন এবং অন্য ছোট দলগুলো থেকে একজন করে প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল সদস্যদের নাম জমা দিলে তাদের প্রতিনিধিদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলো যে অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়ন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

ভারতের সংবিধান গত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধনের উদাহরণ তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংস্কার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সমস্যা কোনো সরকারের পক্ষেই মাত্র ছয় মাসে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতেও অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও চুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দায়মুক্তির আইন করে ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে জনগণের অর্থের ওপর বড় ধরনের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, ওই চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে।

দেশের স্বার্থে এ ধরনের ক্ষতিকর অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...