নারীদের এগিয়ে নিতে পারলে বদলে যাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীদের শিক্ষিত ও কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে পারলে পরিবার যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে, তেমনি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিও ত্বরান্বিত হবে।
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
দিনাজপুর, ২৮ আগস্ট ২০২৬ (বাসস): দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী উল্লেখ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করা গেলে দেশও এগিয়ে যাবে। পরিবারের মেয়েরা শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হলে সেই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ে।
শুক্রবার দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুঃস্থ, অসহায়, মেধাবী শিক্ষার্থী, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদানের চেক এবং মেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পরিবারের মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে আর্থিক সক্ষমতা বাড়ে। এ লক্ষ্যেই মা ও মেয়েদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা ও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের এবং মেয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে নিতে পারলে আগামী দিনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বদলে যাবে।
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সবাই ভালো থাকবে। মানুষের মনে ক্রোধ না রেখে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তুলতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য।
সরকার দেশের বিভিন্ন স্তরে উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য যে অনুদান দিচ্ছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। তিনি বলেন, অনুদানের অর্থ সবজি চাষ, বাগান, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করলে ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। এর ফলে সন্তানদের পড়াশোনা, খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও সহজ হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সব পরিবারের মেয়েদের সরকারি সহযোগিতার আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি পরিবারের স্বচ্ছলতা বাড়ে। একজন নারীকে স্বাবলম্বী করা হলে পুরো পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পথ তৈরি হয় এবং পরিবারকে এগিয়ে নেওয়ার বাস্তবতা সৃষ্টি হয়।
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম শামীম হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ এবং পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন বক্তব্য দেন।
এ সময় ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হারেজ উদ্দিন, মন্ত্রীর পিএস ডা. জাবেদ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাছুদ রানা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট উপজেলার ৬০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে বাইসাইকেল দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্যান্সার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ১১ জন, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ১০৬ জন দুস্থ ব্যক্তি এবং ৬৪ জন আদিবাসীর জন্য অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১৮টি মসজিদ ও ৬টি মন্দিরের উন্নয়নকাজের জন্যও অনুদানের চেক দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।