• ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ৯, ২০২৬, ২৩:৪১ অপরাহ্ণ
বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা বা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না। বিভ্রান্তিকারীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে চলে গেলেও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ।

রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় সংসদে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করবে। বিরোধী দল বা অন্য কারও কোনো পরিকল্পনা থাকলে সেটিও জনগণের সামনে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি কিংবা জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না। দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন আর পেছনে তাকিয়ে থাকার সুযোগ নেই; এখন কাজ করার এবং দেশ গড়ার সময়।

জনগণের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারকে নির্বাচিত করেছে। তাই সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকা।

তিনি বলেন, মা-বোনদের পাশে থাকা, শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, অসুস্থ মানুষের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তরুণ ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে মূল কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

বাঁশখালী উপজেলায় প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে বলেও জানান তিনি।

মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ কৃষকদের পাশাপাশি লবণ চাষীরাও এই কার্ডের সুবিধা পাবেন বলে জানান তিনি।

লবণ চাষীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা শিগগিরই দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সকালে মাতারবাড়ীসহ চট্টগ্রামের মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। বিশাল সমুদ্রকে দেশের জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে।

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে তৃণমূলের মানুষকে আরও উন্নত ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে এই খাতকে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। জনগণের স্বার্থে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ওই ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন হবে, সেই পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং যানবাহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহজে গ্যাস পাওয়ার ব্যবস্থা করার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চট্টগ্রামের দুই নেতার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উল্লেখ করে স্থানীয়দের ধৈর্য ধারণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—একজন অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অন্যজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে চট্টগ্রামের দুই ব্যক্তি থাকায় এই অঞ্চলের উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করা এবং দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকারের নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে জনগণের স্বার্থে নেওয়া সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের মানুষের শ্রমকে দেশের উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেক মানুষ যেন দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে—সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। সামনে এগিয়ে গিয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন।

নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ওই পরিবারকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং হাঁস-মুরগি প্রদান করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বক্তব্য দেন। এ সময় বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।