খসড়া নীতিমালা তৈরির পরেও নড়াচড়া নেই বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি মিলছে না
* দেশের চরম জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করা হচ্ছে এই নীতিমালা * ১০ আগস্টের মধ্যে নীতিমালা প্রেরণের জন্য বলা হলেও তা এখনও নড়েনি * অথচ মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা বিপিসিতে পড়ে আছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০০:০১ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
দেশে যখন জ্বালানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তখন নতুন করে সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। বিশেষ করে সরকারি খসড়া নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সংকটকে আরো ঘূণীভূত করার চক্রান্ত এখন অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। সেখানে ইচ্ছে করেই বেসরকারি খাতে তেল আমদানি ও মজুত বিষয়ে সরকারি নীতিমালার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। যা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর চেয়ারম্যান বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। গত ৬ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আসিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এই পত্র প্রেরণ করা হয়-এতে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালা করে মন্ত্রণালয়ে এই বিভাগে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে আনুরোধ করা হয়। দেশে বর্তমান চরম জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করা হচ্ছে এই নীতিমালা। এ ব্যাপারে বলা হয়েছে- ‘নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য একটি নীতিমালা করা প্রয়োজন।’
চলমান জ্বালানি সংকট মেটাতে সরকার খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের এই উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল (ডিজেল, অকটেন ইত্যাদি) আমদানি, মজুত ও বিপণনের সুযোগ দিয়ে এই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
গত ২৪ মে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে জ্বালানি তেল (ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানিপূর্বক বিক্রয় ও বিপণন ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বরাবরে আবেদন করেছেন আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান।
আবেদনে তিনি জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার আয়ের সক্ষমতা বিবেচনা করে পরিবহন জ্বালানি নেটওয়ার্ক উন্নয়নে কৃষি খাত, শিল্প বিকাশ ও গৃহস্থালী ব্যবহারে সাশ্রয়ী মূল্যের মান সম্পন্ন জ্বালানি তেল সরবরাহ করে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে ধাবিত করে জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানিপূর্বক বিক্রয় ও বিপণন ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি প্রদানের বিনীত অনুরোধের দাবি করেন তিনি।
এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ জুলাই বিদুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) স.ম. আজহারুল ইসলাম বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশন চেয়ারম্যানকে বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালনি তেল আমদানি ও বিপণনের বিষয়ে আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে মতামত প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।
এরপর গত ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি, ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আসিফ আহমেদ বিপিসি চেয়ারম্যানকে (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নির্দেশ দেন। নিদের্শনায় বলেছেন, বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬ এর খসড়া নীতিমালা প্রেরণের নির্দেশ দেন।
তিনি জানান, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৬ এর (খসড়া) গত ১০ আগস্টের এর মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। গত এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিপিসি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৬ এর (খসড়া) প্রণয়ন করেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে, আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোহবান জানান, ২০২৪ সালের ১০ জুন বিওজিসিএল কর্তৃক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতিসহ ৩৮৮টি ফিলিং স্টেশন স্থাপন, এলপিজি/অটোগ্যাস স্টেশনকে ফুয়েল স্টেশনের রূপান্তর ও জ্বালানি তেল বিপণনে অনুমতি প্রাপ্ত হয় বলে জানান।
তিনি আরো জানান, বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা ২০২৩ এর ৬ এর ৬.১.১৩ ধারা মোতাবেক ১৫ লাখ মেট্রিক টন সম্পন্ন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রিফাইনারি স্থাপনা পরিচালনার সক্ষমতা আছে এমন প্রতিষ্ঠান অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করার যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম করতে পারবে যা ইতোমধ্যে বিওজিসিএল অত্যন্ত সক্ষমতা সঙ্গে সম্পাদন করেছে বলে সায়েম সোহবান জানান।
এছাড়া দেশের আরেকটি এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ওমেরাও জ্বালানি আমদানির অনুমতি প্রদানের জন্য আবেদন করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক আজম জে চৌধুরী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছিলেন ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়।