• ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্থিক খাতের নিরাপত্তা ও ব্যাংক সংস্কারে ১,২৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১৮:৩৩ অপরাহ্ণ
আর্থিক খাতের নিরাপত্তা ও ব্যাংক সংস্কারে ১,২৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প
সংবাদটি শেয়ার করুন....

খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি ও পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের আর্থিক খাতকে আরও স্থিতিশীল করতে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার কারিগরি সহায়তা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ব্যাংক সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে সভাপতিত্ব করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত এর বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে বৈদেশিক অর্থায়ন হিসেবে আসবে। বাকি ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, আর্থিক খাতের ‘সেফটি নেট’ বা নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানো এবং চলমান ব্যাংক সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো ও তদারকি সক্ষমতা আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইসিটি অবকাঠামোসংক্রান্ত ক্রয়প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শক সেবা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া আমানত বিমা ট্রাস্ট ফান্ডের (ডিআইটিএফ) আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থ পরিশোধের সময় কমানো এবং ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকল্প নথিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে আর্থিক সেবার চাহিদা বাড়ার কারণে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তবে উচ্চ খেলাপি ঋণ, সুশাসনের দুর্বলতা, পুরোনো আইসিটি ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আর্থিক খাতের তদারকিতে ব্যবহৃত আইসিটি অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে সাইবার হামলা ও আন্তসীমান্ত আর্থিক ঝুঁকিসহ উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা আমানতকারীদের আস্থা এবং দেশের আর্থিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক আগে বাস্তবায়ন করা ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্টের ধারাবাহিকতায় এফএসএসপি-২ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পটির তিনটি প্রধান উপাদান রয়েছে। এগুলো হলো—তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থার উন্নয়ন, আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠনে সহায়তা, এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান।

দ্বিতীয় উপাদানের আওতায় আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা, ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তি আধুনিকায়নে প্রকল্পের বড় একটি অংশ ব্যয় করা হবে। প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে আইসিটি সরঞ্জাম কেনার জন্য ৭১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, কম্পিউটার সফটওয়্যারের জন্য ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং ডেটাবেজের জন্য ৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য আইসিটি ও অফিস সরঞ্জাম কেনার জন্যও অর্থ বরাদ্দ থাকবে।

পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। কমিশনের মতে, প্রকল্পটি আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং, ব্যাংক সংস্কার, ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম শক্তিশালী করবে। এর ফলে ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিকল্পনা কমিশনে জমা পড়ে। একই বছরের ২৩ নভেম্বর বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংশোধিত টিএপিপি চলতি বছরের মে মাসে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...