• ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রসফায়ারের পথে নয়, আইনসম্মতভাবেই সন্ত্রাস দমন করতে হবে: আইনমন্ত্রী

খুলনা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ণ
ক্রসফায়ারের পথে নয়, আইনসম্মতভাবেই সন্ত্রাস দমন করতে হবে: আইনমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ক্রসফায়ার অনেকের কাছে জনপ্রিয় দাবি হলেও সরকার মানবাধিকারের প্রতি অবিচল আস্থা রাখতে চায়—এমন মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে না গিয়ে প্রয়োজনে প্রচলিত আইন আরও শক্তিশালী করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কারও জীবন নেওয়ার অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

বিগত ১৭ বছরে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন আইনমন্ত্রী। তার দাবি, এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশের বাদী ছিল পুলিশ। এছাড়া ক্রসফায়ারে প্রায় সাড়ে চার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন গুম হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামিন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন এবং সরকার বিচার বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। কাউকে জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার জন্য টেলিফোন করা হলে সেটিকে বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে জামিনের বিরোধিতা করতে সরকারি কৌঁসুলিরা প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবেন।

সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো মামলায় পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় আপত্তি না তুললে বা মৃদু আপত্তি তুললে সাংবাদিকরা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করবেন। মন্ত্রী-এমপিদের কেউ সুশাসনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন করার আহ্বানও জানান তিনি।

সাইবার আইন সংশোধনের উদ্যোগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী জানান, তথ্য, মিথ্যা তথ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপতথ্য ও মানহানিকর তথ্য নিয়ে আইনি বিধান আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বাকস্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আইনটি আরও যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, খুলনার রূপসা ঘাটে নদী পারাপারে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, গুটিকয়েক রাজনৈতিক বা ক্ষমতাধর ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষায় সরকার কোনো বদনাম নিজের ঘাড়ে নেবে না। এমনকি তার দলের কেউ জড়িত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণকে কোনোভাবেই দুর্ভোগে রাখা যাবে না বলেও জানান তিনি।

মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। এটিকে তিনি একটি আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রশাসনের একক শক্তিতে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাই ডগ স্কোয়াডসহ প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গে তিনি কৃষকদের কৃষক কার্ড, পরিবারের নারীদের ফ্যামিলি কার্ড এবং ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খতিবদের মাসিক ভাতার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতির কথাও জানান তিনি।

খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, হুইপ, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।