• ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণখানে বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, ঝুঁকিতে শ্রমিক-পথচারী

কলামের বাইরে অতিরিক্ত ডেভিয়েশন, নিরাপত্তা বেষ্টনি ও নির্মাণ তথ্যফলক নেই—অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণখানে বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, ঝুঁকিতে শ্রমিক-পথচারী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকার কোটবাড়ি সালমা মার্কেট-সংলগ্ন একটি বহুতল ভবন নির্মাণকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনুমোদিত নকশা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবন নির্মাণসংক্রান্ত বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এতে নির্মাণশ্রমিকের পাশাপাশি আশপাশের পথচারী ও বাসিন্দারাও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির কলামের নির্ধারিত সীমার বাইরে ডেভিয়েশন করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণস্থলের চারপাশে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনি বা সেফটি ব্যারিয়ার স্থাপন করা হয়নি। ফলে ওপর থেকে নির্মাণসামগ্রী বা অন্যান্য বস্তু পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ভবনটির মালিক আসমা আক্তার গং। সংশ্লিষ্ট প্লটের সিএস, আরএস ও এমএস দাগ নম্বর যথাক্রমে ৪৯৩, ৫৩৩ ও ১৪৩১৭ (অংশ)।

সরেজমিনে গিয়ে নির্মাণকাজের স্থানে ভবন নির্মাণের অনুমোদন, প্রকল্পের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের পরিচয়সংবলিত নির্মাণ তথ্যফলকও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক ভবনের অনুমোদন নেওয়া হলেও সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে নির্মাণাধীন ভবনের ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচয় দেওয়া শওকত হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়গুলোর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে তার দাবি, রাজউকের তদারকিতেই ভবনটির নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজ নিয়ে একাধিক অভিযোগ তারা পেয়েছেন। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহুতল ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা, কাঠামোগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে অনিয়ম হলে ভবনের গুণগত মানের পাশাপাশি জননিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে নির্মাণকাজের প্রকৃত অবস্থা যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।