• ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগস্টে ইইউতে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি বেড়েছে ১২.৭১ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ণ
আগস্টে ইইউতে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি বেড়েছে ১২.৭১ শতাংশ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ১৩৪ দশমিক ০৮ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। তবে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে রপ্তানি ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমেছে। তা সত্ত্বেও ইউরোপের ডেনিম বাজারে শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ডেনিম রপ্তানি হয়েছে ১৩৪ দশমিক ০৮ মিলিয়ন ইউরোর। গত বছরের একই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১৮ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ইউরো। সে হিসাবে এক বছরে রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ।

একই মাসে বিশ্ববাজার থেকে ইইউর ডেনিম আমদানি ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ৪৩০ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। ইইউর মোট ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ গত বছরের আগস্টের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে চলতি বছরের আগস্টে ৩১ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

তবে আট মাসের হিসাবে চিত্রটি ভিন্ন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউতে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ৮৬৯ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৯২৩ দশমিক ১১ মিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ, রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো।

এ সময়ে বিশ্ববাজার থেকে ইইউর ডেনিম আমদানিও ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯৫৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে। ফলে আট মাসে ইইউর মোট ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ আগের বছরের প্রায় ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ হয়েছে।

রপ্তানি কমলেও ইইউর ডেনিম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৩৪৪ মিলিয়ন ইউরো বেশি।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে পাকিস্তানের ডেনিম রপ্তানি ১৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে ৮৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। তবে জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে দেশটির রপ্তানি ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ৫২৫ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। ইইউর মোট ডেনিম আমদানিতে পাকিস্তানের অংশ ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী তুরস্কের রপ্তানি আগস্টে ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৫৮ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। আট মাসে দেশটির রপ্তানি ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ৪৩৮ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে, যা ইইউর মোট আমদানির ১৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।

একই সময়ে তিউনিসিয়ার ডেনিম রপ্তানি ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ২১৯ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। কম্বোডিয়ার রপ্তানি ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে ১৪৪ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ইউরো এবং মরক্কোর রপ্তানি ১৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৬৩ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, মিশরের ডেনিম রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্টে দেশটির রপ্তানি ৫৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ৩০ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে রপ্তানি ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ১৮৮ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, যা ইইউর মোট ডেনিম আমদানির ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

চীনের আট মাসের রপ্তানি ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ১৯৭ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। ইইউর বাজারে দেশটির অংশ ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

তুলনামূলকভাবে ছোট সরবরাহকারী হলেও ভিয়েতনাম ও ভারতও প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ভিয়েতনামের ডেনিম রপ্তানি ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণের একক হিসেবে মূল প্রতিবেদনে ইউরোর অঙ্ক অসম্পূর্ণ রয়েছে। একই সময়ে ভারতের রপ্তানি ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে ৩১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে।

পাকিস্তান, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, কম্বোডিয়া ও মরক্কোর তুলনায় আট মাসে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি হ্রাসের হার কম ছিল।

এ বিষয়ে বাসসের সঙ্গে আলাপকালে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, পোশাক আমদানিতে সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও সুপ্রতিষ্ঠিত সরবরাহব্যবস্থা, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে ইইউর ডেনিম বাজারে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ডেনিম উৎপাদনে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। এর ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে, যা বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছে। আমরা প্রযুক্তিবিদ, প্রযুক্তি এবং উৎপাদনের অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছি।’

তাঁর মতে, বিপুল পরিমাণ পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি, স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন বাড়ানো এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে তুলা উৎপাদিত না হলেও কাপড় তৈরির শক্তিশালী সক্ষমতা ও সুপ্রতিষ্ঠিত শিল্পভিত্তি রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে ডেনিমের মান ও মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।

রুবেল আরও বলেন, ইউরোপের পোশাক বাজারের বর্তমান মন্দা বিভিন্ন দেশের রপ্তানিকারকদের প্রভাবিত করছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আমদানি হ্রাস এবং জ্বালানিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

কঠিন বাজার পরিস্থিতিতেও ইইউর ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবর্তিত বাণিজ্যবিধি, জেনারালাইজড স্কিম অব প্রেফারেন্সেসের (জিএসপি) শর্তাবলি এবং ‘ইউরোপিয়ান গ্রিন ডিল’-এর মতো উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক ডেনিম শিল্পে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত নতুন শর্ত পূরণের দিকে বাংলাদেশের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।