ক্ষমতায় এলে জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা জামায়াত আমিরের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ১৫:৪৭ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, ২০০ আসনে এককভাবে জয়ী হলেও দেশের স্বার্থ, স্থিতিশীলতা এবং সমন্বয় ফেরাতে জামায়াত জাতীয় সরকারই প্রতিষ্ঠা করবে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।
বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সংকট, নাগরিক নিরাপত্তা, নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং নির্বাচন পরবর্তী প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চায়। এ সময় জামায়াত আমির তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারে এলে তার দল একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শকেই বাদ দেব না। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা আনা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য আগামী পাঁচ বছর জাতীয় সরকার অত্যাবশ্যক।’
জাতীয় সরকারে অন্তর্ভুক্তির শর্ত হিসেবে তিনি দুটি বিষয় উল্লেখ করেন— ১. কেউ দুর্নীতি করবেন না এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না; ২. সকল নাগরিক সমান বিচার পাবেন এবং বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।
একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশে এখনো ভোটারদের সচেতনতা পর্যাপ্ত নয়; ফলে দুটি পৃথক ভোট একসঙ্গে হলে উভয় প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তিনি দুটি আয়োজন পৃথক রাখার পক্ষে মত দেন।
ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতেই হওয়া উচিত।’
সংখ্যানুপাতিক (পিআর) ভোটব্যবস্থার প্রতি দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থেই এই পদ্ধতি দাবি করা হয়েছে এবং ক্ষমতায় এলে পিআর বাস্তবায়নে দলের প্রতিশ্রুতি অটুট থাকবে।
রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, তাদের জন্য ধর্ম চিন্তা ও চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ—ক্ষমতা অর্জনের উপাদান নয়। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা ধর্মকে ব্যবহার করি না; যারা নির্বাচন এলেই টুপি-তসবিহ নিয়ে হাজির হন, তারাই ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগান।’