• ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব ধর্মের মানুষের শান্তি-সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ণ
সব ধর্মের মানুষের শান্তি-সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দেশের সব ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ, দল-মত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশে হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। আগামী হাজার বছরও যেন তাঁরা একইভাবে শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ, দল-মত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুর ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনকালে আয়োজিত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছেন। এই ঐক্য ধরে রেখেই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে দেশকে স্বাধীন করেছেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ নির্মাণেও সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বর্তমান সরকার সব নাগরিকের সরকার হতে চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে কোনো এলাকায় বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। তবে সরকার সব নাগরিকের জন্য কাজ করতে চায়। যারা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের পাশাপাশি যারা ভোট দেননি, তাঁদেরও সরকার হতে চায়।

রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সব এলাকার উন্নয়ন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব উদ্যোগের আওতায় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চলছে।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে তিনি সবাইকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা বক্তব্য থাকলে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা যেতে পারে। জনগণের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে যেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ পরিবর্তন বাস্তবায়নে জনগণই সবচেয়ে বড় শক্তি। এ জন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার নবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

এ সময় মন্দিরের পেছনে ছাত্রাবাসের মতো অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ধর্মসভা মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় শিশুরা নৃত্য পরিবেশন করে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়।

প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের পূজারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার তাঁকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ড এবং সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল ও নিপুণ রায় চৌধুরী।

এ ছাড়া ছাত্রদলের পার্থ দেব, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং রংপুর ধর্মসভার স্বপন কুমার ভট্টাচার্যসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। মন্দিরের অনুষ্ঠান শেষে তিনি সড়কপথে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

এর আগে সৈয়দপুর থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।