• ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ণ
সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন ও সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই; দেশের সব নাগরিকের প্রধান পরিচয় তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক।

চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন ও সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় তাঁরা এ দেশের গর্বিত নাগরিক। ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে অভিহিত করার সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ মহল সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষকে শুধু ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে গত নির্বাচনে দেশের মানুষ সেই ধারণার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে ক্ষমতার মোহে দেশের বিভিন্ন স্থানে উপাসনালয় ও সম্পত্তি দখল এবং সহিংসতার রাজনীতি করা হয়েছে। জনগণ এসব অপচেষ্টা সফল হতে দেয়নি। বিগত সময়ে বেদখল হওয়া অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার এবং মন্দির-সংক্রান্ত অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার শুধু প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে কাজের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, উপাসনালয়ের নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য নিপুণ রায়সহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী।