১৩ বছর বয়সে বাবার সাথে নির্বাসিত জাইমা ফিরছেন দেশে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ১৯:৩৬ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
মাত্র ১৩ বছর বয়সেই হঠাৎ থেমে গিয়েছিল স্বাভাবিক শৈশব। খেলাধুলা, স্কুল, বন্ধু—সবকিছু পেছনে ফেলে বাবার সঙ্গে দেশ ছাড়তে হয়েছিল জাইমা রহমানকে। কোনো ব্যক্তিগত অপরাধ বা দায় ছিল না; একমাত্র কারণ ছিল পরিচয়—তিনি তারেক রহমানের কন্যা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি।
দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর বাবার সঙ্গেই একই ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন জাইমা রহমান। সময়ের প্রবাহে ইতিহাস যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে জাইমার জীবনও।
বর্তমানে তিনি ৩০ বছরের একজন আত্মবিশ্বাসী ও সম্ভাবনাময় তরুণী। যুক্তরাজ্যেই তার বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা। লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ২০১৯ সালে Call to the Bar সম্পন্ন করেন। এখন তিনি একটি স্বনামধন্য ব্রিটিশ ল’ ফার্মে পেশাদার আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন।
রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হলেও জাইমা রহমান এখনো বিএনপির রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হননি। তবে সম্প্রতি বিএনপির সাইবার টিমের সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠকে তার দেওয়া দিকনির্দেশনা ও বিশ্লেষণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। অনেকের মতে, তার রাজনৈতিক সচেতনতা ও উপলব্ধিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
দেশে ফেরার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি তার প্রিয় সঙ্গী, আদরের বিড়াল ‘জেবু’কেও সঙ্গে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছেন তিনি। এই ছোট বিষয়টিই ইঙ্গিত দেয়—এই ফেরা কেবল রাজনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক নয়, বরং গভীরভাবে ব্যক্তিগত ও আবেগঘন।
যে দেশ শৈশবে তাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল, সেই দেশেই আজ তিনি ফিরছেন নতুন পরিচয়ে—একজন সফল আইনজীবী, এক প্রজন্মের প্রতীক হিসেবে। নির্বাসনের সন্তান থেকে আত্মমর্যাদার প্রতিচ্ছবি হয়ে তার এই প্রত্যাবর্তন শুধুই ফিরে আসা নয়; এটি ইতিহাসের সামনে নীরব কিন্তু দৃঢ় এক উত্তর।