দেশে-বিদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন
শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ইতিহাসচর্চা ও উন্নয়ন প্রত্যয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মার্চ ২৭, ২০২৬, ০০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের আবহে দিবসটি উদ্যাপিত হয়েছে। শহিদদের স্মরণ, স্বাধীনতার ইতিহাস পুনরুচ্চারণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারই ছিল এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য।
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধ-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন-এ প্রথম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, যা স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা ও পরবর্তীতে স্বাধীনতার বার্তা প্রচারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত রূপ দেন।
এ সময় পুলিশ সংস্কার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আধুনিকায়নের বিষয়েও সরকারের চলমান উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।
চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
তিনি শহিদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সাম্যভিত্তিক, শোষণমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনই এখন সময়ের দাবি। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত আলোচনা সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাস ও জনগণের ক্ষমতায়নই হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি।
তিনি ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন।
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহে উদ্যাপন
ইসলামাবাদ-এ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপিত হয়। হাইকমিশনার মোঃ ইকবাল হোসেন খান স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।
কায়রো-এ বাংলাদেশ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোচনা সভার আয়োজন করেন। তিনি ২৫ মার্চের গণহত্যাকে জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
মুম্বাই-এ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপ-হাইকমিশনার ফারহানা আহমেদ চৌধুরী স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
রিয়াদ-এ বাংলাদেশ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত মোঃ দেলওয়ার হোসেন জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শহিদদের স্মরণে কর্মসূচি পালন করেন। প্রবাসীদের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়।
টোকিও-এ বাংলাদেশ দূতাবাসে দিবসটি ব্যাপক আয়োজনে উদ্যাপিত হয়। রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কুনিমিতসু আয়ানো-সহ কূটনীতিক ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সব আয়োজনেই মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মরণ, স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরা এবং উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ছিল প্রধান উপজীব্য।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি জাতির আত্মপরিচয়, ত্যাগের ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার প্রতীক হিসেবে পুনরায় প্রতিফলিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের প্রতিটি আয়োজনে একটাই বার্তা স্পষ্ট— শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রেখে ঐক্য, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়াই আজকের বাংলাদেশের প্রধান অঙ্গীকার।