সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত উন্নয়ন কর্মসূচি দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বৃদ্ধি, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার (৬ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) শাহরিয়ার জামিল স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মাঠপর্যায়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন এই সেল গঠন করা হয়েছে।
গঠিত সেলের সভাপতি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে। এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সেলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পরিচালক, এসাইনমেন্ট অফিসার-১, গবেষণা কর্মকর্তা এবং প্রটোকল অফিসার-১। এর মধ্যে প্রটোকল অফিসার-১ সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে সেলের কর্মপরিধিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কর্মসূচির চাহিদা গ্রহণ, সংকলন এবং তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ।
এছাড়া প্রাপ্ত কর্মসূচিগুলোর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই, জনস্বার্থ ও বাস্তবসম্ভাব্যতা মূল্যায়ন এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তরে বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ পাঠানো হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়, মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি তদারকি, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনার দায়িত্বও পালন করবে নতুন এই সেল।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সেলের সার্বিক কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে সময় সময় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর থেকে অতিরিক্ত প্রতিনিধি বা জনবল কো-অপ্ট কিংবা সংযুক্ত করা যাবে।
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, অতীতে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব বাস্তবায়নে সমন্বয়ের ঘাটতি, দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিলম্বিত হয়েছে। নতুন এই সেল গঠনের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় কাঠামো তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গেই নতুন সেলটির কার্যক্রম কার্যকর হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারবেন।