মাইশা জেবিন— মাদারীপুরের কিশোরী এই নামটি এখন স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অদম্য পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও অসাধারণ দক্ষতায় কারাতে অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে চলেছেন তিনি।
সম্প্রতি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ কর্মসূচির জেলা পর্যায়ের কারাতে প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে সবার নজর কাড়েন মাইশা। মাদারীপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়-এর অষ্টম শ্রেণির এই ছাত্রী -৪৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে কুমিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জিতে নেন স্বর্ণপদক।
সাফল্যের এই পথে মাইশাকে পার হতে হয়েছে কঠিন কয়েকটি ধাপ। প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে জুহাইরা তাসনিম জুহা, দ্বিতীয় রাউন্ডে মারিয়া আক্তার এবং তৃতীয় রাউন্ডে হাফসা রোজাকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেন তিনি। পরে চূড়ান্ত লড়াইয়ে সপ্তর্ষিমন্ডল মৃদ্যুতৃষ্ণাকে পরাজিত করে স্বর্ণপদক নিজের করে নেন।
মাদারীপুর সদরের আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মাইশা ছোটবেলা থেকেই কারাতের প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন। বাবা এমরান হোসেন ও মা নার্গিস আক্তার-এর উৎসাহে ২০২১ সালে তিনি ভর্তি হন মাদারীপুর জেলা প্রশাসন গোজোরিউ ক্লাব-এ।
এরপর কঠোর অনুশীলন ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে একের পর এক বেল্ট টেস্টে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে গোজোরিউ স্টাইলে ‘ব্রাউন বেল্ট ১ম কিউ’ অর্জন করেছেন এই কিশোরী।
এটাই প্রথম নয়। এর আগেও শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমস এবং ২০২৪ সালের বিজয় দিবস আন্তঃজেলা কারাতে প্রতিযোগিতায় কাতা ও কুমিতে স্বর্ণপদক জিতে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন মাইশা।
গত বছর ক্রীড়া পরিদপ্তরের আয়োজনে স্কুল পর্যায়ের দলীয় প্রতিযোগিতাতেও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেন মাইশা জেবিন। তার এই সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, গর্বিত পুরো মাদারীপুরবাসী। স্থানীয়দের মতে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের জন্য বড় অর্জন বয়ে আনতে পারেন এই উদীয়মান কারাতে তারকা।