মুক্তিযুদ্ধ ছিল প্রকৃত জনযুদ্ধ: জাতীয় সংসদের স্পিকার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ২২:৪৩ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে প্রকৃত জনযুদ্ধ ও জাতির যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, পাকিস্তানি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি প্রকৃত জনযুদ্ধ, যেখানে শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে দেশের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, পাকিস্তানি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর এসকেএস টাওয়ারে ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘সিনিয়র টাইগার্স’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘সিনিয়র টাইগার্সের অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পুনর্মিলনী-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ১৯৪৮ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠিত হয়। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এ রেজিমেন্ট সবচেয়ে বেশি বীরত্বসূচক সাহসিকতার পুরস্কার লাভ করে। পাকিস্তানের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টই প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু করে। এ রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে না তুললে বাংলাদেশ এখনো পাকিস্তানের অংশ থাকত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের যুদ্ধ, জাতির যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ যারা দেখেননি, তাঁরা জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় প্রত্যক্ষ করতে পারেননি। দেশের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, তাঁদের জীবন ছিল রোমাঞ্চকর। প্রতিটি মুহূর্তে বিজয়ের প্রত্যাশা ও মৃত্যুর আশঙ্কার মধ্য দিয়ে তাঁদের এগিয়ে যেতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নেতৃত্ব দিয়েছিল।
অনুষ্ঠানে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে নিজের অতীত জীবনের স্মৃতিচারণ করেন স্পিকার। মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরে অসীম সাহসিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে অংশ নিয়ে জাতির গৌরবময় ইতিহাসের অংশ হওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় ভূমিকা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ‘সিনিয়র টাইগার্স’-এর পক্ষ থেকে স্পিকারকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও সেনা কর্মকর্তা, বিশিষ্ট অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।