ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ২২:৪৮ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের কাছে সহজে আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান। এ লক্ষ্যে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দেশের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা বিনির্মাণে প্যারালিগ্যাল অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্যারালিগ্যাল সেবার নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে (এনজিও) সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদালত ও কারাগারের ওপর চাপ কমাতে প্যারালিগ্যালরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন, যার প্রমাণ ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। এ সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া গেলে প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের জন্য আইনি সহায়তা পাওয়া আরও সহজ হবে।
এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য জার্মান সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনি সেবা সহজলভ্য করা এবং প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাদের অব্যাহত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মেলনে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিশাল ক্রেইজা (Michal Krejza) এবং বাংলাদেশে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ (Dr. Rudiger Lotz) বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে প্যারালিগ্যাল সেবার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্যারালিগ্যালদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, সরকার ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ অংশীদারত্ব, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, সেবার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং টেকসই অর্থায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ ছাড়া মালাউই, ফিলিপাইন ও কিরগিজস্তানের বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ দেশের বিচারব্যবস্থায় প্যারালিগ্যাল সেবা অন্তর্ভুক্ত করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।