• ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হেফাজতের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হেফাজতের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহর নেতৃত্বে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিবর্গের একটি প্রতিনিধি দল। সাক্ষাতে ধর্মীয় মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আজ দুপুরে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিবর্গের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতী হারুন ইজহার ও মাওলানা মীর ইদরীস নদভি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জাতীয় ইমাম খতীব কাউন্সিলের সমন্বয়ক মাওলানা ফয়সাল এবং খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন এবং কারাগারে তাঁদের দুর্বিষহ বন্দিজীবনের স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর মহান আল্লাহ দেশ গড়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, তা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজে লাগাতে হবে। ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন যেন আর ফিরে না আসে এবং ধর্মের নামে কেউ যাতে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আলেমদের যথেষ্ট সম্মান করতেন। ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ সংযোজন করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ অন্তর্ভুক্ত করেন।
নিজেকে বর্তমানে ‘সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মানুষ’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইসলামি মূল্যবোধ ও শরিয়ায় আঘাত আসে—এমন কোনো কাজ যাতে কেউ না করেন, সে বিষয়ে তিনি লক্ষ্য রাখবেন।
সাক্ষাতে প্রতিনিধি দলটি মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ ধনী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এসব দেশ থেকে বিনিয়োগ ও অনুদান আনতে দেশের আলেম সমাজের আরবি ভাষাজ্ঞান, যোগাযোগের দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান তাঁরা।
জবাবে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় প্রতিনিধি দলটি রাষ্ট্রপতিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা এবং ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা সফরের আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সুবিধাজনক সময়ে মাদ্রাসা দুটি পরিদর্শন এবং হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।